বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬
 শিরোনাম
পদ্মা ও যমুনায় দ্বিতীয় সেতু এবং পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা এগিয়ে নিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জীবিত থাকলে সরকারকে শান্তিতে থাকতে দেবেন না বলে মন্তব্য তথ্য উপদেষ্টার শূন্য পাসের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোর হচ্ছে শিক্ষা প্রশাসন, জবাবদিহি করতে হবে শিক্ষকদের আইফোন ডুয়ের সরবরাহ সংকট কবে কাটবে, অনিশ্চিত অ্যাপল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান হরমুজ প্রণালিতে দুই মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি ইরানের প্রকৌশলী নজরুলের অনৈতিক প্রশ্রয়ে সরকারি মেগা প্রকল্পে যুবলীগ নেতার দৌরাত্ম্য! ২০২৭ সালে জাতীয় গ্রিডে ৩-৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ যুক্ত করার লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী তাহসিফ হত্যা মামলায় নতুন মোড়, দীপকে ফের রিমান্ডে নিতে চায় পুলিশ চার দিন গ্যাস সরবরাহ বন্ধের খবর বিভ্রান্তিকর: পেট্রোবাংলা

চিকিৎসা সেবা ব্যাহত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

চিকিৎসা সেবা ব্যাহত সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে

জনবল সংকট ও বিভিন্ন যন্ত্রপাতির অভাবে  সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ (সামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
রি-এজেন্টের অভাবে প্রায় এক মাস ধরে ৫শত শয্যার এ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বন্ধ রয়েছে রক্তের সিবিসি পরীক্ষা। এছাড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটিও প্রায় দুই মাস ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এতে ব্রেইন স্ট্রোকের মতো স্পর্শকাতর রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বাইরের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। ফলে রোগীদের একদিকে যেমন ভোগান্তি বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে চিকিৎসা ব্যয়। অপরদিকে, এ খাত থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। সবমিলিয়ে জেলার ২৩ লাখ মানুষ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা থেকে অনেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।  

এদিকে, জনবল সংকটের মধ্যেও প্রতিদিন আউটডোরে (বহির্বিভাগ) গড়ে প্রায় দুই হাজার এবং ভর্তিকৃত গড়ে প্রায় আরো ৫ শতাধিক রোগীর চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছেন হাসপাাতলের চিকিৎসক ও নার্সসহ অন্যান্য কর্মীরা।

মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিনিয়র, জুনিয়র এবং সহকারী সার্জনসহ মঞ্জুরীকৃত পদে মোট চিকিৎসক থাকার কথা রয়েছে ১০১ জন। তার বিপরীতে রয়েছে ৬৫ জন। হাসপাতালটিতে বর্তমানে ৩৬ জন চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া হাসপাতালটিতে নার্সসহ দ্বিতীয় শ্রেণীর মঞ্জরীকৃত পদে জনবল থাকার কথা রয়েছে মোট ২৬৬ জন। তার বিপরীতে রয়েছে ২৪১ জন। হাসপাতালটিতে নার্সসহ অন্যান্য পদে ঘাটতি রয়েছে ২৫ জন। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর মঞ্জুরীকৃত পদে কর্মচারী থাকার কথা ৯১ জন। তার বিপরীতে রয়েছে মাত্র ৪৪ জন। ঘাটতি রয়েছে এখনো ৪৭ জন।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর স্বজনরা জানান, কোটি কোটি টাকার ব্যয়ে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নির্মাণ হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকটের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়ছে। জনবল সংকট ও হাসপাতালের পরীক্ষারগারের যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ঠিকমত চিকিৎসা সেবা নিতে পারছেন না।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু পুত্রের চিকিৎসা নিতে আসা শহরের রাজারবাগান এলাকার সাংবাদিক আসাদুজ্জামান মধু জানান, হাসপাতালটিতে জনবল সংকটের কারনে চিকিৎসা সেবা কিছুটা হলেও ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া রি-এজেন্টের অভাবে প্রায় এক মাস ধরে রক্তের সিবিসি পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে এবং রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের একমাত্র সিটি স্ক্যান মেশিনটিও প্রায় দুই মাস ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। এরফলে রোগীদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বাইরের প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে। তিনি আরো বলেন, হাসপাতালটির চিকিৎসা সেবার মান আগের থেকে এখন অনেক ভালো। তবে, গাইনী বিভাগের চিকিৎসা সেবা বেশী ভালো বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মেহেরুন নেসা নামের একজন রোগীর স্বজন জানান, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিবিসি পরীক্ষার জন্য নেয়া হয় মাত্র ১৫০ টাকা। সেটা বাইরের কোন ক্লিনিক থেকে করতে হলে ৪০০ টাকা পড়ে যায়। যেটা আমাদের মতো গরীব মানুষের জন্যই খুবই কষ্টকর। সরকারী হাসপাতালে গরীব লোক ছাড়া বড় লোক কেউ তো তেমন সেবা নিতে আসেনা। তিনি আরও বলেন, এখানে বিশেষজ্ঞ ও ইন্টার্নি চিকিৎসদের ব্যবহারে মন ভরে যায়। দুই একজন নার্স ছাড়া সকলের ব্যবহার ভালো।

ফুলবিবি নামে একজন রোগীর স্বজন বলেন, শ্যামনগরের গাবুরা থেকে রোগী নিয়ে এসেছি। সাতক্ষীরা শহরের কিছুই চিনিনা। আমার রোগী আনা মাত্র রোগী দেখে কিছু পরীক্ষা-নিরীাক্ষা করতে বলে। সেই ডাক্তার শহরের একটি ক্লিনিকের কথা বলে দেয়। ওই ক্লিনিক থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা না করালে রোগী দেখবেনা। রোগীর অক্সিজেন দেওয়া। কিভাবে নিয়ে যাবো বলেন। সরকারি হাসপাতালে এসেছি বিনামূল্যে সেবা নেব বলে। বেসরকারি ক্লিনিকে গেলে বেশি খরচ পড়বে। পরে ডাক্তারের কাছে অনেক অনুরোধ করে মেডিকেল কলেজে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছি।