শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২৬
 শিরোনাম
২০২৭ সালে ঈদের ছুটি কত দিন, সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা পোশাক খাতে অস্থিরতার অভিযোগে ১০০ ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের উদ্যোগ আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো তাহসিফ হত্যা: ঘটনার রাতের বর্ণনা দিলেন রিমান্ডে থাকা দীপ এনসিপি ছাড়লেন সামান্তা শারমিন, জামায়াতের সঙ্গে জোট নিয়ে অসন্তোষ অধ্যক্ষের পদত্যাগ দাবিতে মধ্যরাতে সড়কে ছাত্রীরা, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পর্যালোচনায় ছয় সদস্যের কমিটি ভারতীয় ভিসায় নতুন শর্ত, আবেদনপত্রের সঙ্গে দিতে হবে অঙ্গীকারনামা বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাইলেন ভারতীয় সাংবাদিক ময়ূখ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চার দেশের জাহাজ চলাচলে ছাড় দিল ইরান

ধূমপান ত্যাগের পর শরীরের ইতিবাচক প্রভাব

ধূমপান ত্যাগের পর শরীরের ইতিবাচক প্রভাব

ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে আমরা প্রায় সবাই জানি। কিন্তু ধূমপান বন্ধ করার পর শরীর যে কত দ্রুত সুস্থ হতে শুরু করে তা অনেকেরই অজানা। প্রতিটি সিগারেট ধীরে ধীরে ফুসফুসকে নষ্ট করে ফেলে। তবে আশার বিষয় হলো—ধূমপান বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই শরীর নিজেকে মেরামত করতে শুরু করে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফুসফুসের কার্যকারিতা ও রক্তসঞ্চালন উন্নত হয়।

অ্যানেস্থেশিয়োলজিস্ট ও ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. কুনাল সুধ ব্যাখ্যা করেছেন, ধূমপান কীভাবে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং ধূমপান বন্ধ করার পর শরীর কীভাবে পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু করে। তার মতে, ধূমপান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগ এবং নিকোটিনের আসক্তির ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ধূমপান ছাড়ার জন্য সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডা. সুধ জানান, ধূমপান শুধু ফুসফুস নয় বরং পুরো শ্বাসতন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে। এটি ফুসফুসকে শক্ত ও অনমনীয় করে দেয়, যার ফলে ফুসফুসের প্রসারণ এবং স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা কমে যায়। এর পরিণতিতে দেখা দিতে পারে দীর্ঘস্থায়ী কাশি, মিউকাস জমা, ব্রঙ্কাইটিস, এমফিসেমা এবং ফুসফুসের ক্যানসার। ধূমপান ফুসফুসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমিয়ে দেয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে এবং শরীরের পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়।

তিনি জানান, ধূমপান বন্ধ করার ২ থেকে ১২ সপ্তাহের মধ্যে রক্তসঞ্চালন ও ফুসফুসের কার্যক্ষমতা স্পষ্টভাবে উন্নত হয়। এক বছরের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি অর্ধেকে নেমে আসে এবং ১০ বছরের মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে যায়।

ডা. সুধের মতে, সম্পূর্ণভাবে ধূমপান বন্ধ করা স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ। তিনি পরামর্শ দেন নিয়মিত কার্ডিও ব্যায়াম, শ্বাস–প্রশ্বাসের অনুশীলন এবং প্রয়োজনে পেশাদার সহায়তা নেওয়ার। পাশাপাশি তিনি অন্ত্র ও ফুসফুসের পারস্পরিক সম্পর্কের (গাট–লাং অ্যাক্সিস) গুরুত্বের কথাও উল্লেখ করেন, কারণ সুস্থ অন্ত্র প্রদাহ কমিয়ে ফুসফুসের স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সবশেষে বলা যায়, ধূমপান শরীরের প্রায় সব অঙ্গেই ক্ষতি করে—বিশেষ করে ফুসফুস ও হৃদপিণ্ডে। কিন্তু ধূমপান ছাড়ার পর শরীর অবিশ্বাস্য দ্রুত গতিতে নিজেকে পুনরুদ্ধার করতে শুরু করে। তাই এখনই ধূমপান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিন, প্রয়োজনে সহায়তা নিন। আপনার ফুসফুস, হৃদয় ও ভবিষ্যৎ আরও নিরাপদ ও সুস্থ হয়ে উঠবে।