শনিবার, নভেম্বর ৭, ২০২৬
 শিরোনাম
আদিবাসী সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা অ্যাঞ্জেলার ইসলাম গ্রহণের গল্প টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি, প্রাণ গেল সেনাসদস্যের এক দিন পরই কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ছাড় ২৭৪১ টাকা নিখোঁজের দুই দিন পর বাগানের ডোবায় মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চমবারের মতো সিনেটর হলেন বাংলাদেশের শেখ রহমান ১০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম, আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ভিপি নাশরা সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ঘুষ-হয়রানি কমলে শ্রমিকদের ৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব’ ‘তিনি আমার স্ত্রী নন’, এনসিপিতে যোগদানের খবর নিয়ে রনির দাবি এমপি আমির হামজাকে ঘিরে ভিডিও-অডিও থাকার দাবি রাশেদ খানের

পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ও টিআরপি নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনার ঘোষণা তথ্যমন্ত্রীর

পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ও টিআরপি নির্ধারণে স্বচ্ছতা আনার ঘোষণা তথ্যমন্ত্রীর

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, সংবাদপত্র ও টেলিভিশন খাতের শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পত্রিকার প্রচার সংখ্যা (সার্কুলেশন) এবং টেলিভিশনের দর্শক পরিমাপের সূচক ‘টিআরপি’ নির্ধারণ পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনা হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতি পরিহার করে আধুনিক ডিজিটাল মেকানিজমের মাধ্যমে সঠিক উপাত্ত (ডেটা) নিশ্চিত করা হবে।

আজ সকালে রাজধানীর তথ্য ভবন মিলনায়তনে ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, তথ্য ও যোগাযোগের বিজ্ঞানে উপাত্ত বা ‘ডেটা’ ছাড়া কোনো তথ্যই পূর্ণাঙ্গ নয়। বর্তমানে পত্রিকার ছাপা সংখ্যা এবং টেলিভিশনের টিআরপি নির্ধারণে যে পদ্ধতিগুলো চালু আছে, সেগুলো অনেকটা প্রশ্নবিদ্ধ। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে রাষ্ট্র, সমাজ এবং অংশীজনরা এক ধরনের বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। আমরা এই ডিজিটাল যুগে মেকানিজম পরিবর্তন করে একটি গ্রহণযোগ্য ও বিজ্ঞানসম্মত সমাধান বের করব।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম খাতের সামগ্রিক সংস্কারে সরকার শীঘ্রই একটি ‘তথ্য কমিশন’ গঠন করতে যাচ্ছে।

অবাধ তথ্য প্রবাহের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, তথ্যের স্বাধীনতা মানে যেমন খুশি তেমন প্রচার নয়। তথ্যকে অবশ্যই দায়িত্বশীল ও ‘ক্লিন ইনফরমেশন’ হতে হবে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সংবাদপত্র শিল্পে ওয়েজবোর্ড এবং শ্রম আইন অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। মানহানি মামলাসহ অন্যান্য পেশাগত আইনি জটিলতাগুলো প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সভায় আলোচকের বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে পেশাদার সাংবাদিকদের নিবন্ধন ও একটি শক্তিশালী ডাটাবেজ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

তিনি বলেন, পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে হলে সাংবাদিকদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা ও তালিকাভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলোর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ আইন প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, গণমাধ্যমের প্রধান সম্পদ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখাই সাংবাদিকের মূল কাজ।

তিনি সতর্ক করে বলেন, গণমাধ্যমের পরাজয় মানে জনগণের পরাজয়, আর জনগণের পরাজয় মানে রাষ্ট্রের পরাজয়। তাই কোনো অবস্থাতেই গণমাধ্যমকে পরাজিত হতে দেওয়া যাবে না।

নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (নোয়াব) সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী সরকারকে সতর্ক করে বলেন, অনুগত সাংবাদিকতা গণমাধ্যম ও জবাবদিহিতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মালিকদের সংগঠন অ্যাটকো’র মহাসচিব আব্দুস সালাম বলেন, বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বর্তমানে চরম আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এই শিল্পকে বাঁচাতে সরকারের পক্ষ থেকে ‘পলিসি সহায়তা’ এবং দ্রুত ‘ডিজিটালাইজেশন’ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ, ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. এস এম শামীম রেজা।