শুক্রবার, নভেম্বর ৬, ২০২৬
 শিরোনাম
আদিবাসী সংস্কৃতিতে বেড়ে ওঠা অ্যাঞ্জেলার ইসলাম গ্রহণের গল্প টেকনাফে মানবপাচারকারীদের সঙ্গে গোলাগুলি, প্রাণ গেল সেনাসদস্যের এক দিন পরই কমল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ছাড় ২৭৪১ টাকা নিখোঁজের দুই দিন পর বাগানের ডোবায় মিলল স্কুলছাত্রীর মরদেহ যুক্তরাষ্ট্রে পঞ্চমবারের মতো সিনেটর হলেন বাংলাদেশের শেখ রহমান ১০০ বছরের ইতিহাসে প্রথম, আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ে নারী ভিপি নাশরা সংবিধানে ইসলামী মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটানো হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘ঘুষ-হয়রানি কমলে শ্রমিকদের ৪০ হাজার টাকা বেতন দেওয়া সম্ভব’ ‘তিনি আমার স্ত্রী নন’, এনসিপিতে যোগদানের খবর নিয়ে রনির দাবি এমপি আমির হামজাকে ঘিরে ভিডিও-অডিও থাকার দাবি রাশেদ খানের

বাজেট প্রণয়নে নতুন ধারার সূচনার চেষ্টা: অর্থমন্ত্রী

বাজেট প্রণয়নে নতুন ধারার সূচনার চেষ্টা: অর্থমন্ত্রী

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, কম সময়ের মধ্যে আমরা বাজেটের মডেলটা একটু পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছি। অর্থাৎ প্রচলিত বাজেটের মডেলকে পরিবর্তন করার চেষ্টা করা হয়েছে। 

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির ‘ডিবেট বাজেট এন্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রথমে বাজেটে আমরা যেটা বলেছি, সেটা হলো- অর্থনীতিতে গণতন্ত্রায়নের কথা। কারণ বাংলাদেশে অর্থনীতিটা দুর্ভাগ্যজনকভাবে অনেকটা পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি। অর্থনীতিতে গণতন্ত্রায়নের অর্থ হচ্ছে- বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারবে। সেটাকে মাথায় রেখে আমরা যারা এতদিন অর্থনৈতিক সুফলের বাইরে ছিল, তাদের বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যে মানুষগুলো সেই কামার-কুমার, কুটির শিল্প থেকে শুরু করে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে, ক্রীড়াক্ষেত্রে আছে, হত দরিদ্র যারা আছে, তাদের সবার কথা মাথায় রেখে আমরা কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করেছি।

বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির (এমআরএ) নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।

সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, গ্রামাঞ্চলের মৃৎশিল্প, শীতলপাটি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প খাতের কারিগরদের আয় বাড়াতে সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। এসব পণ্যকে অধিক বাজারযোগ্য করে তুলতে পারলে কারিগরদের আয় কয়েক গুণ বাড়বে।

তিনি বলেন, যে পণ্য এখন ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, সেটি যদি ২ হাজার টাকায় বিক্রি করা যায়, তাহলে কারিগরদের আয় বাড়বে। মানুষের আয় বাড়লেই অর্থনীতি শক্তিশালী হবে এবং জিডিপিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

লোকসংগীত, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র খাতের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার সৃজনশীল শিল্প ও সংস্কৃতিকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আরও বেশি সম্পৃক্ত করতে চায়। বিনোদন খাতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, গান, সংস্কৃতি, চলচ্চিত্র সবকিছুকেই আমরা মনিটাইজ করতে চাই। বিনোদনও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হতে পারে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দায়িত্বে আসার পর ১ হাজার ৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প হাতে পেয়েছি। এগুলো আমাদের জন্য বোঝা। না পারছি গিলতে, না পারছি ফেলতে । আমরা প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করেছি। ডিরেগুলেশনের দিকে যাচ্ছি এবং সব প্রকল্প কার্যকরভাবে মনিটর করবো।’

অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, আমাদের একটা গবেষণা করা উচিত এবং সেই গবেষণাটা হবে, বাজেটের পুঙ্খানুপুঙ্খ যতগুলো ব্যয় আছে সেগুলো নিয়ে প্রত্যেকটি ব্যয়ের সুফল কারা পাচ্ছে, কীভাবে পাচ্ছে সেইটা খুঁজে বের করার চেষ্টা করা। 

সেমিনারে প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ নূরুল আমিন এবং ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন।

আলোচনায় আরো অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রো-উপাচার্য ও অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সায়মা হক বিদিশা, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শারমিন্দ নীলোর্মি, বিআইডিএস-এর সিনিয়র গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মানবিক বিভাগের (অর্থনীতি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাজমুল ইসলাম।