বৃহস্পতিবার, নভেম্বর ৫, ২০২৬
 শিরোনাম
বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব এবং সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর হচ্ছে ডিসেম্বরে প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা, দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য ১,৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট আর্টিলারি রেজিমেন্টের অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে চীনের অঙ্গীকার: লিউ ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্পপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা: মাহদী আমিন আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সিউলে বিএনপি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে

পুঁজিবাজারে খুচরা বিনিয়োগকারীর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

পুঁজিবাজারে খুচরা বিনিয়োগকারীর নির্ভরতা কমিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক করতে হবে: অর্থমন্ত্রী

দেশের পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারী নির্ভরতা থেকে বের করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নির্ভর বাজারে রূপান্তর করতে ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের করতে হলে এর প্রতিটি স্তরে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করতে হবে। পুঁজিবাজারের সব লেনদেন ও কার্যক্রম পুরোপুরি কাগজবিহীন করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

আজ আইসিবি’র সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইসিবি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল দেশে মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাজারভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিনিয়োগ নিশ্চিত করাই ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত খুচরা বিনিয়োগকারী নির্ভর। অথচ বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারী নির্ভরতা থেকে বের করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী নির্ভর বাজারে রূপান্তর করতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইসিবিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আইসিবিকে প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে একটি সম্পূর্ণ বাজারভিত্তিক, প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে পুঁজিবাজার ও দেশের আর্থিক খাতের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রসঙ্গ তুলে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ পদে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়াই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হবে না।

পুঁজিবাজারের ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, এসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস ও আইসিবিসহ পুঁজিবাজারের প্রতিটি স্তরে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু হয়েছে। 

‘নো পেপার ট্রানজ্যাকশন, নাথিং পেপার’ নীতির আওতায় এখন থেকে লিস্টিং আবেদন, অনুমোদন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে হবে।

সম্প্রতি নিউইয়র্কে বিশ্বের ১৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে আস্থা প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেট ফান্ড, জলবায়ু তহবিল ও ডেরিভেটিভস পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে বৈশ্বিক পুঁজি আনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের চর্চায় অভ্যস্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত ব্যাংকনির্ভরতার বাইরে এসে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও চর্চার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাওয়াতে হবে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আইসিবি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ও দক্ষ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।

আইসিবির চেয়ারম্যান নিরঞ্জন চন্দ্র দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক এবং আইসিবির চেয়ারম্যান আবু আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।