বুধবার, নভেম্বর ৪, ২০২৬
 শিরোনাম
বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী জাতীয় বিপ্লব এবং সংহতি দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর হচ্ছে ডিসেম্বরে প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩১ সালের মধ্যে ১৫০ কূপ খনন ও ওয়ার্কওভারের পরিকল্পনা, দৈনিক গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্য ১,৭৫২ মিলিয়ন ঘনফুট আর্টিলারি রেজিমেন্টের অধিনায়ক সম্মেলন ও পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা জোরদারে চীনের অঙ্গীকার: লিউ ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্পপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর সৌরবিদ্যুৎ পরিকল্পনা: মাহদী আমিন আইসিএপিপির ১৩তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে সিউলে বিএনপি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকে

প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে হত্যার পর অস্ত্রসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে হত্যার পর অস্ত্রসহ ৬ জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে যুবদল কর্মী তারেক হোসেন বাপ্পিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে বাপ্পিকে হত্যা করা হয়।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১২টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—বাড়বকুণ্ড মধ্যম মাহমুদাবাদ দিঘীরনালা এলাকার মো. আরিফ হোসেন (২৯), একই এলাকার অলিনগর চৌকিদার বাড়ির ফখরুল ইসলাম (৩২), নডালিয়া এলাকার আব্দুল মান্নান (২৮), অলিনগরের মো. ইফতেখার (৩৫), হাসনাবাদ মুরাদপুর এলাকার আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫) এবং মধ্যম মাহমুদাবাদ দীঘিরনালা এলাকার নুর আহাম্মদ রনি।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার(১৬ অক্টোবর) রাত পৌনে ১১টার দিকে সীতাকুণ্ডের বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন পাকা রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে খাবার খেয়ে বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন বাপ্পি। আগে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ওত পেতে থাকা অভিযুক্তরা তাদের মোটরসাইকেলের গতি রোধ করেন। পরে বাপ্পি ও তার বন্ধুকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফ হোসেন বাপ্পিকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন এবং অন্য অভিযুক্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় বাপ্পির সঙ্গে থাকা ইমন কৌশলে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে বাপ্পির বুকে গুলি করা হয় এবং অপর একজনও তাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

গুলির বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় তাপসির আলম শাওন নামের এক যুবক বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে তাকেও লক্ষ্য করে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে জখম করা হয়। দুজনকেই মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে হামলাকারীরা একাধিক ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে পালিয়ে যান।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশ জানিয়েছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিহত তারেক হোসেন বাপ্পির সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত মো. আরিফ হোসেন ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বাপ্পি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অভিযুক্তদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে একাধিকবার সামাজিকভাবে সতর্কও করেছিলেন। এই পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারের পথে বাপ্পিকে বাধা মনে করেই তার ওপর এই পরিকল্পিত সশস্ত্র হামলা চালানো হয়।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই জেলা পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করে। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক ও গণমাধ্যম) মো. রাসেল আহমেদ বলেন, হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।